“সিরিয়াল কিলিং”- জনরার অনেক ধরনের মুভিই দেখেছেন সবাই এই পর্যন্ত। বেসিক্যালি, প্রত্যেকটা মুভিতে থিমটা প্রায় একই। একজন সাইকোপ্যাথ র‍্যান্ডমলি অথবা একটা প্যাটার্ন ফলো করে নিরীহ মানুষজনকে ক্রমাগত হত্যা করতে থাকবে। খুনের মোটিভ খুঁজতে গিয়ে পুলিশ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ডিটেক্টিভ, মিডিয়া সবারই রাতের ঘুম হারাম আর পেটের ভাত চাউল হয়ে যাওয়ার দশা হয়। অনেক জলঘোলা করে একটা একটা সূত্র মিলিয়ে শেষ পর্যায়ে সিরিয়াল কিলারের মুখোশ উন্মোচন হয়। “Anjaam Pathiraa (2020)”- তেমনই ধাঁচের একটা মুভি।

একটা সিরিয়াল কিলিং জনরার মুভিতে যে সকল ফর্মূলা এপ্লাই করে দর্শককে শেষ পর্যন্ত বসিয়ে রাখা যায়, এই মুভিতে তার প্রায় সবগুলো ফর্মুলাই এপ্লাই করা হয়েছে। পার্থক্য শুধু একটা জায়গায়।
অন্যান্য মুভিতে যেখানে সিরিয়াল কিলারের ভিক্টিম থাকে সাধারণ মানুষ, এই মুভিতে সিরিয়াল কিলারের ভিক্টিম হচ্ছে পুলিশ! কলিজায় দম আছে স্বীকার করতেই হবে!

বর্তমানের অস্থিরতা পূর্ণ সময়টাতে “ন্যায় বিচার” শব্দদ্বয় এখন কমেডিরই নামান্তর। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সমাজের কোন সেক্টরেই। এতে করে অপরাধ এবং অপরাধী মনমানসিকতার মানুষের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছেই। ন্যায়বিচারের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এর পেছনে অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিদ্যমান। রাজনৈতিক কিংবা পেশিশক্তির জোরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন যুদ্ধেরই নামান্তর। এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে পরিণতি যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে সেটা কয়েকটা শব্দ কিংবা বাক্যে বুঝিয়ে বলা আদৌ সম্ভব নয়।

“Anjaam Pathiraa”- শব্দটির অর্থ হচ্ছে “৫ম মধ্যরাত্রী”। মালায়লাম সিনেমা ইন্ড্রাস্ট্রিতে “কুঞ্চাক্কো বোবান” বেশ পরিচিত একটি মুখ। তার অভিনীত “Vettah” সিনেমাটা কারো দেখা থাকলে বুঝে যাবেন এই অভিনেতার নিপুণ অভিনয়শৈলির বৈচিত্র। সিনেমায় তিনি একজন ক্রিমিনোলজিস্ট, নাম আনোয়ার হোসেন। অপরাধীদের মাইন্ড নিয়ে রিসার্চ করা, অপরাধী মন মানসিকতার মূল খুঁজে বের করা তার কাজ। পুলিশ বিভাগের স্থায়ী অপরাধ বিশেষজ্ঞ হয়ে কাজ করা তার অনেকদিনের বাসনা। খুব শীঘ্রই তার বাসনা পূরন হতে শুরু করে আচানক, অনভিপ্রেত কিছু ঘটনার সূত্রপাতের কারণে।

অপার্থিব সুন্দর শহর কেরালার রাতের নিঝুম নিস্তব্ধতায় অপহৃত হতে থাকে একের পর এক পুলিশ। পরের দিন তাদের লাশ পাওয়া যায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রত্যেকটা লাশের কিলিং স্ট্রাকচার একই রকম। চোখ উপড়ে ফেলা হয়, হার্ট বুকের খাঁচা থেকে বের করে ফেলা হয়। পুলিশের ক্রাইম ডিভিশনের সাথে ঘটনাচক্রে কাজ শুরু করে আনোয়ার, অপরাধীকে ধরতে মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু, আনোয়ার যখনই ভাবে খুনিকে ধরে ফেলেছে, তখনই সে আবিষ্কার করে দিল্লী এখনও বহুদূর। অপরাধী যেন তেন লেভেলের খুনি নয়, টেক স্পেশালিস্ট একই সাথে ক্ষুরধার বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। আক্ষরিক অর্থেই, কিলার আর পুলিশের মাঝে মাইন্ড গেম চলতে থাকে।

আইএমডিবিতে ৮.১ রেটিং নিয়ে বেশ ট্রেন্ডিংয়ে আছে বর্তমানে মুভিটা। এন্ডিংটা সেভাবে ভালো না লাগলেও ওভারল মেকিং, বিজিএমের যথাযথ ব্যবহার, ইন্টেন্স মোমেন্টের আতিশয্য দুই ঘন্টা স্ক্রিনে সেঁটে রাখবে দর্শকদের।